Skip to main content

ইরাদাহ বা আল্লাহর ইচ্ছা কত প্রকার? -

ফতোয়া আরকানুল ইসলাম

প্রশ্ন: (৩৬) ইরাদাহ বা আল্লাহর ইচ্ছা কত প্রকার?

উত্তর: ইরাদাহ (ইচ্ছা) দু’প্রকার 

 1) ইরাদাহ কাওনীয়া (সৃষ্টি গত ইচ্ছা)

 2) ইরাদা শারঈয়া (শরী‘আত গত ইচ্ছা) 

আল্লাহর যে ইচ্ছা সৃষ্টি করার সাথে সম্পৃক্ত তাই ইরাদাহ কাওনীয়া। আর যে ইচ্ছা ভালোবাসার সাথে সম্পৃক্ত তাকে ইরাদাহ শারঈয়া বলা হয়। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা কোনো জিনিসকে ভালোবেসে যে ইচ্ছা পোষাণ করেন তাকে ইরাদাহ শরঈয়া বলা হয়। ইরাদাহ শরঈয়ার উদাহরণ হলো, আল্লাহর বাণী

 ﴿وَٱللَّهُ يُرِيدُ أَن يَتُوبَ عَلَيۡكُمۡ﴾ [النساء: ٢٧] 

“আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে ইচ্ছা করেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৭]

এখানে ইচ্ছা করেন অর্থ ভালোবাসেন। এখানে সৃষ্টিগত ইচ্ছা অর্থে ব্যবহার হয় নি; বরং ব্যবহৃত হয়েছে শরী‘আতগত ইচ্ছায়। যদি সৃষ্টিগত অর্থে হত তাহলে সকল মানুষকে ক্ষমা করে দিতেন; কিন্তু তা তো করেন নি। কেননা অধিকাংশ বনী আদমই কাফির। সুতরাং আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে ইচ্ছা করেন অর্থ আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করা পছন্দ করেন। আল্লাহ কোনো জিনিসকে ভালোবাসার অর্থ এই নয় যে, তা অবশ্যই কার্যকরী হবে। তা কার্যকরী না হওয়ার পিছনে নিশ্চয় কোনো রহস্য রয়েছে।

ইরাদাহ কাওনীয়া তথা সৃষ্টির সাথে সংলিষ্ট ইচ্ছার দৃষ্টান্ত হলো,

 ﴿إِن كَانَ ٱللَّهُ يُرِيدُ أَن يُغۡوِيَكُمۡۚ﴾ [هود: ٣٤] 

“যদি আল্লাহই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন।” [সূরা হূদ, আয়াত: ৩৪]

এখানে যে ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে, তাতে আল্লাহর ভালোবাসা থাকা জরুরি নয়।

যদি বলা হয় কার্যকরী হওয়া বা না হওয়ার দিক থেকে ইরাদাহ কাওনীয়া এবং ইরাদাহ শরঈয়ার মধ্যে পার্থক্য কী? উত্তরে আমরা বলব যে, ইরাদাহ কাওনীয়াতে উদ্দিষ্ট বস্তু অবশ্যই কার্যকরী হবে। আল্লাহ কোনো বস্তু সৃষ্টি করতে চাইলে তা অবশ্যই করবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

 ﴿إِنَّمَآ أَمۡرُهُۥٓ إِذَآ أَرَادَ شَيۡ‍ًٔا أَن يَقُولَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ ٨٢﴾ [يس: ٨٢] 

“আল্লাহর আদেশ তো এমনই যে, তিনি যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চান, তখন তিনি বলেন, হয়ে যাও। আর সাথে সাথে তা হয়ে যায়।” [সূরা ইউনুছ, আয়াত: ৮২]

আর ইরাদা শারঈয়া বাস্তবায়িত হওয়া আবশ্যক নয়। কখনো তা কার্যকরী হয় আবার কখনো কার্যকরী হয় না। তা‘আলা শরী‘আতগতভাবে জিনিসটি বাস্তবায়িত হওয়াকে পছন্দ করেন।

যদি কোনো লোক জিজ্ঞাসা করে যে, আল্লাহ কি পাপ কাজের ইচ্ছা পোষণ করেন? উত্তর হলো সংঘটিত হওয়ার দিক থেকে পাপ কাজও আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়; কিন্তু আল্লাহ তা পছন্দ করেন না এবং ভালোবাসেন না, তবে আকাশ-জমিনে যা কিছু হয়, তা আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়। 

Comments

Popular posts from this blog

মোহাম্মদ সাঃ সম্পর্কে - মাইকেল এইচ হার্ট

মোহাম্মদ সাঃ সম্পর্কে- মাইকেল এইচ হার্ট The 100_মাইকেল এইচ হার্ট বই Page 3 মুহাম্মদ (570-632)  বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মুহাম্মদকে আমার পছন্দ কিছু পাঠককে অবাক করে দিতে পারে এবং অন্যদের দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, কিন্তু তিনিই ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি যিনি ধর্মীয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ উভয় স্তরেই অত্যন্ত সফল ছিলেন। নম্র বংশোদ্ভূত, মুহাম্মদ বিশ্বের একটি মহান ধর্ম প্রতিষ্ঠা ও প্রচার করেছিলেন এবং একজন অত্যন্ত কার্যকর রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠেন। আজ, তার মৃত্যুর তেরো শতাব্দী পরে, তার প্রভাব এখনও শক্তিশালী এবং বিস্তৃত। এই বইয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যক্তিদের সভ্যতার কেন্দ্রে, উচ্চ সংস্কৃতিবান বা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলিতে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠার সুবিধা ছিল। মুহাম্মদ অবশ্য দক্ষিণের মক্কা শহরে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন Page 4 আরব, তৎকালীন বিশ্বের একটি পিছিয়ে পড়া অঞ্চল, বাণিজ্য, শিল্প ও শিক্ষার কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে। ছয় বছর বয়সে অনাথ, তাকে পরিমিত পরিবেশে লালন-পালন করা হয়। ইসলামী ঐতিহ্য আমাদের বলে যে তিনি নি...