কেন আমাদের জীবনে কখনো কখনো কিছু মানুষ স্বল্প সময়ের জন্য আসে এবং তারপরে দীর্ঘ সময় অথবা চিরদিনের জন্যই হারিয়ে যায়, কেন আল্লাহ তাদের আমাদের জীবনে পাঠান- ইব্রাহীম আনসারি
⦿ আমাকে একদিন একজন প্রশ্ন করেছিল যে-
"কেন আমাদের জীবনে কখনো কখনো কিছু মানুষ স্বল্প সময়ের জন্য আসে এবং তারপরে দীর্ঘ সময় অথবা চিরদিনের জন্যই হারিয়ে যায়, কেন আল্লাহ তাদের আমাদের জীবনে পাঠান"
সে নাকি এই প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে কখনো পায়নি, তবে আমি তাকে তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার একটু চেষ্টা করেছিলাম। আমি বলেছিলাম-
➤ "যে, আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আমাদের জীবনে কোন কোন মুহূর্তে এরকম কিছু মানুষদেরকে
নেয়ামত স্বরূপ পাঠান সে মহিলা অথবা পুরুষ যেই হোক না কেন, তারা আমাদের জীবনে সুন্দর কিছু শিক্ষা দিয়ে যায়, হয়তো যে জিনিসটা আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও করতে পারছিলাম না সেটা সেই
ব্যক্তি চলে যাওয়ার পরে আমরা করতে পারি, কখনো কখনো
এরকম দেখা গেছে যে কোন মানুষের জন্য কেউ পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের পথে ফিরে এসেছেন আবার কখনো এরকমও দেখা গেছে যে কেউ দ্বীনের পথে ছিল কিন্তু তার ঈমান কমজোর ছিল
তখন আবার কোন এক সুন্দর দ্বীনি মানুষের কারণে ঈমান মজবুত হয়ে উঠেছে, মাঝে মাঝে আমাদের জীবনে কিছু কঠিন কাজও সম্পন্ন হতে কোন মানুষের বড় অবদান
রয়ে যায়। সত্যি কথা বলতে আমরা যদি এরকম উদাহরণ দিতে থাকি তাহলে হয়তো কখনোই শেষ
হবে না, আসলে যদি আমরা একটু পজেটিভ চিন্তাভাবনা দিয়ে ভেবে দেখি যে সেই মানুষগুলো যারা
খুবই স্বল্প সময়ের জন্য আমাদের জীবনে কখনো এসেছিল এবং তারা আবার হারিয়ে গেছে
চিরদিনের জন্য এই মানুষগুলো হয়তো কোন না কোন ভাবে অল্প কিংবা বেশি উপকারই করে
গেছে আমাদের জীবনে, সেটা হতে পারে তাদের জ্ঞানবশত অথবা অজ্ঞানবশত, খারাপ
পন্থায় অথবা ভালো পন্থায়। সেই সমস্ত পরিস্থিতির মাধ্যমে হয়তো আল্লাহ আমাদের
সতর্ক করেছেন এই সমাজের প্রতারণা, মিথ্যাচার, বিশ্বাসঘাতকতা এবং বিভিন্ন বিপদ আপদ সম্পর্কে। কারণ হতে পারে আল্লাহ সুবহানাহু
তাআলা তাদের কে আমাদের জীবনে পাঠিয়েছিলেন কোন পরীক্ষা স্বরূপ অথবা শিক্ষা স্বরূপ
(আল্লাহ ভালো জানেন)।
➤ প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা বর্তমানে আমরা প্রায় প্রত্যেকে আল্লাহর উপর থেকে
ভরসা করা কম করে দিয়েছি, আমরা পজেটিভ ধারণা করতেই ভুলে গেছি। হয়তো সেই কারণেই আমাদের জীবনে এত হতাশা।
আমরা আমাদের জীবনের সুখ, খুশি, আনন্দ , সব হারিয়ে ফেলছি, আমি আপনাদেরকে বলি শুনেন আপনারা একটু আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সুধারনা রাখার
চেষ্টা করেন।
রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন "তোমাদের প্রত্যেকে যেন শুধু এ অবস্থায়
মৃত্যুবরণ করে যে সে আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করে" ( মুসলিম ২৮৭৭)
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা আমাদের সকলের প্রয়োজন ধৈর্য ধারণ করা, আমাদের ধৈর্য শক্তি হ্রাস পাচ্ছে তাই আমরা ক্ষতির মধ্যে ডুবে আছি।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
১) সময়ের কসম
২) নিশ্চয়ই সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততায় নিপতিত
৩) তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে সৎকাজ করছে পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে
এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে (সুরা আসর)
আল্লাহ তাআলা বলেন-
হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।(
সূরা বাকারা ২:১৫৩)
বর্তমানে আমরা নেগেটিভ ধারণার বশবর্তী হয়ে কষ্টে ভেঙে পড়ি-
আল্লাহ তাআলা বলেন-
নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে, অবশ্যই
কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। ( সূরা ইনশিরা ৯৪:৫)
এরকম অবস্থায় আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করা ছেড়ে দিই-
আল্লাহ তাআলা বলেন-
মুমিনদের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করা উচিত।
আর আমরা কেন আল্লাহর উপর ভরসা করব না তিনিই তো আমাদেরকে পথের দিশা দেখিয়েছেন।
(সুরা ইব্রাহীম ১৪:১১,১২)
প্রিয় ভাই ও বোনেরা কি ভাবছেন লেখাটা পড়ে ?
লেখাটা পড়ে কি আদেও আপনি কিছু বুঝতে পারলেন বা আপনার ভালো লাগলো, যদি এই লেখাটা আপনার প্রশ্নেরও জবাব দিয়ে থাকে তাহলে এটা হয়তো আরও অনেক
মানুষের প্রশ্নের জবাব দেবে। শেয়ার করুন তার সাথে যার ঠিক এরকমই প্রশ্ন আছে। আশা
করি সেই ব্যক্তিও তার প্রশ্নের উত্তর পাবেন ইনশাআল্লাহ।
এখন আমি আপনাকে একটা কথা বলি, জানেন আমি কিন্তু লিখতে একদম পছন্দ করতাম না, এর আগে কখনো ফেসবুকে কিছু লিখিনি নিজে থেকে এবং আজকে যেটা লিখলাম এত ধৈর্য ধরে এটাও কিন্তু কোন এক মানুষের অবদান যে আমাকে এই প্রশ্নটা ঐদিন না করলে হয়তো আজ এই লেখা আমি লিখতে পারতাম না।😌
আলহামদুলিল্লাহ😇
আল্লাহ আমাদের সকলকে তাকওয়াশীল বানিয়ে দিন। আমিন
- ইব্রাহীম আনসারি

Comments
Post a Comment